মো. ফজলুর রহমান, এফসিএ জনাব মো. ফজলুর রহমান, এফসিএ ১৮ জুন, ২০২৬ তারিখে এবি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এর দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে, জনাব রহমান ১৯৯৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবি ব্যাংকে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাংক এই সময়ে আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করে।
জনাব রহমান একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ব্যাংকিং কার্যক্রম, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব স্বল্পমেয়াদি বাজার পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সফলতার পরিচয় দেন।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত নিয়ে জনাব রহমানের অসংখ্য বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ দেশের বিভিন্ন স্বণামধন্য জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
ফিরোজ আহমেদজনাব ফিরোজ আহমেদ এবি ব্যাংক লিমিটেডের একজন পরিচালক এবং বোর্ডের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি এলিট পেইন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এলিট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, হেক্সাগন কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড এবং আহমেদ সিকিউরিটিজ সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ছাড়াও জনাব ফিরোজ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও জনসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে এড-হক নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের একজন সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার আজীবন সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সদস্য। তিনি চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম-এর আজীবন সদস্য।
এহসান কে. শোয়েবজনাব এহসান কে. শোয়েব ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এবি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগদান করেন। ব্যাংকিং খাতে সুদীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনাব শোয়েব-এর কৌশলগত ব্যবস্থাপনা, রিটেইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, কোর ব্যাংকিং ট্রান্সফরমেশন এবং তাঁর দূরদর্শী ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসিত।
জনাব শোয়েব ১৯৮২ সালে এবি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার-এর প্রথম ব্যাচের সদস্য হিসেবে তাঁর ব্যাংকিং কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় ৩০ বছরের ব্যাংকিং কর্মজীবনে, তিনি বিজনেস স্ট্র্যাটেজি ইউনিট, রিটেইল ব্যাংকিং, কোর বিজনেস টিম (সিবিটি), এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হিসেবে বেশ কয়েকটি নেতৃত্বস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়ন, শাখা সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী পণ্যের উন্নয়ন, রিটেইল ও কর্পোরেট ব্যাংকিং কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানসহ অনলাইন কোর ব্যাংকিং কেন্দ্রীভূতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এবি ব্যাংক থেকে অবসর গ্রহণের পর জনাব শোয়েব হুন্দাই মোটরস বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ব্যবসায়িক কৌশল ও সাংগঠনিক উন্নয়নে পরামর্শক হিসেবে তিনি ২০১৮ সাল থেকে প্রোঅ্যামস-এ কর্মরত আছেন।
জনাব শোয়েব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লয়েডস ব্যাংক পিএলসি-তে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বিষয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) পরিচালিত বিভিন্ন নির্বাহী উন্নয়ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
শফিকুল আলমজনাব শফিকুল আলম গত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সালে এবি ব্যাংক লিমিটেড এর স্বতন্ত্র পরিচালক পদে যোগদান করেছেন। জনাব শফিকুল আলম,স্বনামধন্য ব্যাংকার হিসেবে বিগত ৪০ বছর ধরে দেশী- বিদেশীবিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।
জনাব শফিকুলআলম ১৯৮০ সালে এএনজেড গ্রিনডলেজ ব্যাংক (বাংলাদেশ)-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রাইম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকেরঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষে যমুনা ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন (২০১৩-২০১৯)।
মোঃ এস্কান্দার মিয়াজনাব মোঃ এস্কান্দার মিয়া এবি ব্যাংক লিমিটেড-এ স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ২৩শে অক্টোবর, ২০২২ তারিখে যোগদান করেন। ব্যাংকিং পেশায় জনাব মিয়ার রয়েছে ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতা। ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের র গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট , ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি, এগ্রিকালচারাল অডিট এন্ড পলিসি, ফরেন এক্সচেঞ্জ ইন্সপেকশন, প্রফেশনাল প্রেজেন্টেশন, এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট এন্ড পেমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করেন।
ড. নাসিমা এ. রহমান ড. নাসিমা এ. রহমান ২৭ মে, ২০২৫ তারিখে এবি ব্যাংক পিএলসি-তে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী।
আইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ-লিগ্যাল গর্ভন্যান্স, অ্যাডভোকেসি এবং মনিটরিং বিষয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য সুনাম রয়েছে। এছাড়া ইউএনএইচসিআর-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রামসহ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক আইন প্রশিক্ষণে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে ।
তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন সক্রিয় সদস্য। লিগ্যাল এডুকেশন, স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট ও জনসাধারণের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর নেতৃত্বের জন্য তিনি সর্বমহলে সুপরিচিত।
ড. রহমান সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একইসাথে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে আইন ও মানবাধিকার বিষয়েও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরীজনাব আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরী ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও রূপান্তর আনয়নে সাফল্যের প্রমাণ রাখা এই অভিজ্ঞ ব্যাংকার এবি ব্যাংকের পরবর্তী অধ্যায়ের নেতৃত্ব দিবেন। পরিচালনা পর্ষদের মতে, জনাব চৌধুরীর এই নিয়োগ ব্যাংকের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রতি ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলিন।
বাংলাদেশ, হংকং ও সিঙ্গাপুরসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে জনাব চৌধুরীর প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি, স্কটিয়া ব্যাংক, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ইন্দোসুয়েজ- এ ঊধ্বর্তন নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে স্থির ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের জন্য সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া, আমানতকারীদের আস্থা অর্জন, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং শৃঙ্খলা ও সততার সাথে সাফল্য অর্জনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
সর্বশেষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংকের কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন। এসময় আমনতকারীদের আস্থা অর্জন, খেলাপি সম্পদ পুনরুদ্ধার, ব্যাংকের সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারকরণে তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি টেমোনোস কোর ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নীত করার মাধ্যমে মূল প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করে এবং তথ্য নিরাপত্তার জন্য ISO 27001:2022 সনদ অর্জন করে। একইসঙ্গে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিনি বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।
এর আগে, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি- এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মূলধন বৃদ্ধি, বিভিন্ন কার্যক্রমের কেন্দ্রীকরণ, ঝুঁকি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।
প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় তাঁর দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত। তাঁর এই নিয়োগ এবি ব্যাংকের সুশাসনকে আরও দৃঢ়করণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।